x

এইমাত্র

  •  নাসিরপুরের ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে ১১ জন আটক

জাতীয় প্রেস ক্লাব নির্বাচনে ভোটগহণ চলছে

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৩৪

সাহস ডেস্ক

জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক (২০১৭-১৮) নির্বাচন ভোটগ্রহণ চলছে।জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক হাজার ২১৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে (ইভিএম) এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-বার্ষিক এ নির্বাচনে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ১৭টি পদে ৫১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তথ্য প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মোঃ মোস্তফা-ই-জামিল, জাফর ইকবাল, শাহ আলমগীর ও মোঃ নাসির উদ্দিন।

সাংবাদিকদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের একাধিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি সাংবাদিকদের একক প্যানেল দিয়েছে।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দল বা আদর্শ বিবেচনায় প্যানেলভুক্ত হয়ে বিভিন্ন পদে প্রার্থীরা নির্বাচন করলেও প্রার্থীর জয়-পরাজয় অনেকটা ব্যক্তি ইমেজের ওপর নির্ভর করছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সরকারপন্থি সাংবাদিকদের শফিক-ফরিদা প্যানেলে প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম, সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ আশরাফ আলী ও শাহেদ চৌধুরী এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কার্তিক চ্যাটার্জি।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী ১০টি পদে প্রার্থীরা হলেন- এনায়েত হোসেন খান, কাজী রফিক, কুদ্দুস আফ্রাদ, কল্যাণ সাহা, মোল্লা জালাল, রেজোয়ানুল হক রাজা, শামসুদ্দিন আহমেদ চারু, শ্যামল দত্ত, শাহনাজ বেগম ও হাসান আরেফিন।

বিএনপি-জামায়াতপন্থি আজিজ-গণি পরিষদে প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে এম এ আজিজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, সহ-সভাপতি সদরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক নাজমুল আহসান ও ইলিয়াস খান এবং কোষাধ্যক্ষ কাজী রওনাক হোসেন।

১০ জন কার্যনির্বাহী পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন- বদিউল আলম, বখতিয়ার রানা, হাসান হাফিজ, মাহমুদা চৌধুরী, নূরুল হাসান খান, নির্মল চক্রবর্তী, শামসুল হক দুররানী, মোঃ সানাউল হক, মাহমুদ হাসান ও মোহাম্মদ মোমিন হোসেন।

এ ছাড়া সাংবাদিক নেতা আমানুল্লাহ কবির ও খোন্দকার মনিরুল আলমের নেতৃত্বে বিএনপিপন্থি আরও ১টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। খোন্দকার মনিরুল আলম নিজ প্যানেলে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক নেই। বাকি পদে প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহম্মদ রুহুল কুদ্দুস, সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, ২ জন যুগ্ম-সম্পাদক পদে জহিরুল হক রানা (১টি পদে নেই) ও কোষাধ্যক্ষ পদে সরদার ফরিদ আহমেদ।

এ ছাড়া ১০ জন কার্যনির্বাহী সদস্য পদে এ প্যানেলের ৬ জন প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন- আমানুল্লাহ কবির, খায়রুল আলম বকুল, গালীব হাসান, নূরুল ইসলাম খোকন, এইচএম জালাল আহমেদ ও আবুল কালাম আজাদ।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী আমানুল্লাহ কবিরের নেতৃত্বাধীন ফোরাম থেকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সেই ফোরাম থেকে বেরিয়ে আলাদা একটি সভাপতিবিহীন আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছেন। নিজ প্যানেলে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তার নেতৃত্বাধীন প্যানেলে অন্য প্রার্থীরা হলেন- সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক (২টির একটি) আবদুল গাফফার মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য পদে গোলাম মহিউদ্দিন খান, আবদুল বাসেত মিয়া ও আবদুস সালাম হাওলাদার বাচ্চু।

সাংবাদিকদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রেস ক্লাবের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের একাধিক প্যানেল থাকায় বিভক্তি প্রকাশ্যে রয়েছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। বিএনপির মূল অংশ বলে পরিচিত আজিজ-গণি পরিষদের বিপরীতে খোন্দকার মনিরুল আলম (একাংশ) ও কামরুল ইসলাম চৌধুরীর (একাংশ) প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের ভোট ভাগাভাগি হচ্ছে।

অন্যদিকে, বর্তমান সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিকদের একক প্যানেল থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ডালপালা মেলেছে। সাদাচোখে একই প্যানেলভুক্ত হলেও আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিকদের প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একসঙ্গে ভোট চাইতে খুব বেশি দেখা যায়নি।তবে ২৮ ডিসেম্বর ফোরামের মিটিং থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করা হয়্। 

এদিকে শফিকুর রহমান ও ফরিদা ইয়াসমিন প্যানেলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কাউকে প্রার্থী না করায় ওই অঞ্চলের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

জানা যায়, গত রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) এই দুই বিভাগের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে একটি মিটিং হয়। উত্তরাঞ্চলের প্রায় শতাধিক সাংবাদিক প্রেস ক্লাবের সদস্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে কাউকে প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় ওই মিটিংয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনে এটিও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত