শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ-রাজ্জাক

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১১:৫৪

সাহস ডেস্ক

নায়ক রাজ রাজ্জাক আজকের এই দিনে (২৩ জানুয়ারি, ১৯৪২) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার আসল নাম আব্দুর রাজ্জাক। এই বিখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক নামে অধিক পরিচিত। ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত।

শৈশবকাল
রাজ্জাক পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।

ঢালিউড
তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে 'ঘরোয়া' নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু অস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ ক'টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে। তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ
বছর     চলচ্চিত্র
১৯৬৬     আখেরি স্টেশন    
১৯৬৬     ১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন         
১৯৬৬     কাগজের নৌকা         
১৯৬৬     বেহুলা        
১৯৬৭     আগুন নিয়ে খেলা     
১৯৬৭     আনোয়ারা          
১৯৬৭     দুই ভাই          
১৯৬৮     নিশি হলো ভোর         
১৯৬৮     আবির্ভাব             
১৯৬৮     এতটুকু আশা     
১৯৬৮     সুয়োরাণী দুয়োরাণী     
১৯৬৯     মনের মতো বউ         
১৯৬৯     ময়নামতি             
১৯৬৯     আগন্তুক    
১৯৬৯     নীল আকাশের নীচে
১৯৭০     যে আগুনে পুড়ি    
১৯৭০     ক,খ,গ.ঘ.ঙ    
১৯৭০     আঁকা বাকা,     
১৯৭০     জীবন থেকে নেয়া
১৯৭০     পীচ ঢালা পথ         
১৯৭০     যোগ বিয়োগ    
১৯৭০     দর্পচুর্ণ    
১৯৭০     মধুমিলন        
১৯৭০     ঢেউয়ের পর ঢেউ
১৯৭০     টাকা আনা পাই        
১৯৭০     কাঁচ কাটা হীরা    
১৯৭০     দ্বীপ নেভে নাই    
১৯৭০     স্বরলিপি    
১৯৭০     নাচের পুতুল    
১৯৭০     স্মৃতিটুকু থাক        
১৯৭২     অশ্রু দিয়ে লেখা    
১৯৭২     এরাও মানুষ    
১৯৭২     ওরা ১১ জন        
১৯৭২     ছন্দ হারিয়ে গেল    
১৯৭২     অবুঝ মন        
১৯৭৩     রংবাজ    
১৯৭৩     ঝড়ের পাখি    
১৯৭৪     আলোর মিছিল
১৯৭৪     ভুল যখন ভাঙল    
১৯৭৪     বেঈমান    
১৯৭৪     পরিচয়    
১৯৭৪     অবাক পৃথিবী    
১৯৭৪     বাদী থেকে বেগম        
১৯৭৫     সাধু শয়তান    
১৯৭৫     আলো তুমি আলেয়া        
১৯৭৫     অনেক প্রেম অনেক
১৯৭৫     মায়ার বাঁধন
১৯৭৬     গুণ্ডা    
১৯৭৬     আগুন    
১৯৭৭     অমর প্রেম    
১৯৭৭     অনন্ত প্রেম    
১৯৭৮     সোহাগ        
১৯৭৮     অগ্নিশিখা    
১৯৭৮     অশিক্ষিত    
১৯৮০     জোকার    
১৯৮০     ছুটির ঘন্টা        
১৯৮০     আনারকলি        
১৯৮২     দুই পয়সার আলতা    
১৯৮২     রাজা সাহেব        
১৯৮৩     লালু ভুলু        
১৯৮৪     চন্দ্রনাথ        
১৯৮৭     রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত    
১৯৮৮     জামানা    
১৯৮৯     রাম রহিম জন    
১৯৯২     অন্ধ বিশ্বাস        
১৯৯৪     সতীনের সংসার    
১৯৯৭     জজসাহেব    
১৯৯৭     বাবা কেন চাকর    
১৯৯৮    পৃথিবী তোমার আমার        
২০০০     বাবা কেন আসামী
২০০১     কঠিন বাস্তব        
২০০১     মরণ নিয়ে খেলা    
২০০২     সমাজকে বদলে দাও    
২০০২     কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি    
২০০৪     বাপ বেটার লড়াই    
২০০৬     পিতার আসন    
২০০৮     এক টাকার বউ    
২০০৮     পিতামাতার আমানত    
২০০৮     আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা    
২০০৮     জমিদারবাড়ির মেয়ে    
২০০৯     মিয়াবাড়ির চাকর        
২০০৯     ভালোবাসার শেষ নেই    
২০১০     বাপ বড় না শ্বশুর বড়        
২০১১     হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ

পুরস্কার
জাতীয় চলচ্চিত্র আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (২০১৩), মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা (২০১৪) সহ আরও অনেকগুলো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সম্মাননা
১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সাথেই ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন রাজ্জাক। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক খেতাব। অর্জন করেন একাধিক সম্মাননা। এছাড়াও, রাজ্জাক জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন।

জন্মদিন পালন
প্রতি বছরই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে রাজ্জাক গুলশানের নিজ বাসভবন 'লক্ষ্মীকুঞ্জে' ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করে থাকেন। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত