entertainment-1881-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%80 ‘মাইমের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরী’

‘মাইমের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরী’

প্রকাশ | ২৭ মে ২০১৬, ২০:২৪

বাংলায় মূকাভিনয় হলেও বিশ্বব্যাপী এই শিল্প ধারাটি পরিচিত মাইম আর্ট নামে। বাংলাদেশে মাইম আর্ট তার প্রভাব খুব বেশি বিস্তার লাভ করতে না পারলেও ধীরে ধীরে মাইমকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন মাইম শিল্পী ও মাইম সংগঠন। তেমনি একজন মাইম আর্ট শিল্পী টুটুল। আজকে সাহসের মুখোমুখি টুটুল।

সাহস: কেমন আছেন?
টুটুল: ভালো আছি।

সাহস: আপনারা তো মাইম নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে।
টুটুল: হ্যাঁ মাইম আর্টকে একটা শক্ত অবস্থানে নেবার আন্দোলনটা দীর্ঘদিনের। আমাদের অগ্রজরা করে গেছেন। তাদের পথে আমরাও চেষ্টা করছি। 

সাহস: আপনাদের সংগঠন মাইম আর্ট এর বর্তমান কাজের বিষয়ে জানতে চাচ্ছি?
টুটুল: মাইম আর্ট থেকে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রযোজনা নিয়ে রিহার্সেল শুরু করেছি। আমাদের সবার খুব পরিচিত হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা গল্প বেইজ করে একটা কাজ করছি। এখানে টুইস্ট হিসেবে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পের সাথে আমরা যুক্ত করেছি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র টম এন্ড জেরী। আশা করছি দর্শকদেরকে নতুন স্বাদের কিছু উপহার দিতে পারবো আমরা।

সাহস: কবে নাগাদ দর্শকের সামনে আসছে এই প্রযোজনাটি?
টুটুল: আমরা যথাসম্ভব দ্রুত এটা মঞ্চায়ন করতে চাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামি দুই মাসের মধ্যেই দর্শক এটা দেখতে পাবে বলে আশা করি।

সাহস: মাইম আর্টের উল্লেখযোগ্য কাজ কোনগুলো?
টুটুল: ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ নামে আমরা একটা শো করেছিলাম সেটা খুব জনপ্রিয় একটা কাজ। দর্শক প্রিয়তার কারনেই আমরা এরই মধ্যে ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ এর ১৬ টা শো করেছি। গত মা দিবসে আমরা টিএসসি তে মঞ্চস্থ করলাম ‘মা’ নামে একটি প্রযোজনা। আরও বেশকিছু কাজ রয়েছে আমাদের।

সাহস: মাইম আর্ট এর এই মুহুর্তের অবস্থানকে কিভাবে দেখেন? সাধারণ দর্শকের কাছে মাইমকে কতোটা নিয়ে যেতে পেরেছেন বলে মনে করেন?
টুটুল: অবশ্যই আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে মাইম। আমাদের মাইম গ্রুপ মাইম আর্ট আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি মাইম আর্টকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে। পাশাপাশি আরও সংগঠন রয়েছে, তারাও কাজ করছে। আমরা মাইম আর্টের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বেশীরভাগ জেলায় মাইম শো করেছি। তবে এটা সত্য যে আমাদেরকে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

সাহস: মাইমের মূল লক্ষ কি?
টুটুল: মাইম অন্য দশটা শিল্পের মতোই সামাজিক ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই কাজ করে। তবে বর্তমানে মাইমের ধারায় একটা পরিবর্তন আসছে। যেমন ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি যে মাইম কেবল বিনোদনের জন্য নয়। মাইমের মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরি ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য কাজের ক্ষেত্র হতে পারে মাইম। কেবল কৌতুক নয়, মাইম দিয়ে মানুষকে কাঁদানো যায়, ভাবানো যায়। আর মানুষের ভেতর বোধ জাগানোটাকেই আমি মাইমের মূল লক্ষ বলে মনে করি।

সাহস: মাইম আর্টে নারী শিল্পীদের খুব বেশি দেখা যায়না, এর কারন কি বলে মনে করেন?
টুটুল: গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। দেখুন প্রথমত সহজে জনপ্রিয়তা পাবার জন্য মাইমে কোন শর্টকাট ওয়ে নেই। আর টেলিভিশন নাটক কিংবা থিয়েটার আমাদের দেশে যতোটা পরিচিত মাইম কিন্তু ততোটা পরিচিত নয়। অনেকেই জানেনা যে মাইম আর্ট নামে একটা শিল্প ধারা রয়েছে। তবে দিনদিন মাইমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

সাহস: আপনার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে জানতে চাই, মাইম কি আপনার একক পেশা বা নেশা?
টুটুল: মাইমটা আমার নেশা অথবা ভালোবাসা। কিন্তু মাইমের পাশাপাশি আমি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। 

সাহস: এতো শিল্প মাধ্যমের মধ্যে আপনি মাইমটাকেই বেঁছে নিলেন কেনো?
টুটুল: আমি প্রথমত চেষ্টা করেছিলাম টেলিভিশনে অভিনয়ের জন্য। অভিনয়ের স্কুলিং করার জন্যই আমি প্রাচ্যনাটে ভর্তি হই। আর প্রাচ্যনাটের অভিনয় কর্মশালায় আমি প্রথম পরিচিত হই মাইমের সাথে। আর সেখান থেকেই মাইমের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তখন থেকেই আমি অভিনয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে থাকি মাইম নিয়ে। তারপর নিথর মাহবুব ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। আর মাইমের জগতে নিথর ভাইয়ের হাত ধরেই আমার যাত্রা শুরু। তিনি আমাকে তার মাইম গ্রুপ মাইম আর্টে যুক্ত করে নেন। 

সাহস: তবে নিথর মাহবুব আপনার মাইমের শিক্ষক?
টুটুল: হ্যাঁ। মাইমে আমি এখন পর্যন্ত যা করছি পুরোটাই নিথর ভাই আমাকে হাতেকলমে শিখিয়েছেন। 

সাহস: মাইমকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে কি কি উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
টুটুল: মাইমটাকে সকল দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি। নাটক সিনেমার মতো যদি মাইম শিল্পটাকে সরকারের গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি অনুদান বা মাইমের জন্য একটা মাইম একাডেমি নির্মাণ করা খুবই জরুরী। পাশাপাশি যদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসে তবে মাইম শিল্প একটা জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ধারায় পরিনত হতে পারবে। 

সাহস: মাইম নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
টুটুল: আমি মাইমটাকে দেশের জনপ্রিয় একটা শিল্প হিসেবে দেখতে চাই এবং অবশ্যই নিজেকে একজন দক্ষ মাইম শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে চাই।

সাহস: সাহসের পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ আপনাক। আপনার আর আমাদের মাইম আর্টের জন্য অনেক শুভকামনা।
টুটুল: আপনাকে ও সাহসকে ধন্যবাদ সমর্থন নিয়ে মাইমের পাশে থাকার জন্য।