x

এইমাত্র

  •  নাসিরপুরের ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে ১১ জন আটক

‘কারো মেধা কেউ আটকে রাখতে পারে না’

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৬, ০৩:৪৯

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে একটা দৃশ্যমান বাঁক বদলের কারণ ছিলো মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ছবিয়াল। সেই ছবিয়াল থেকে যারা বর্তমানে পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে তাদের মধ্যে ব্যস্ত ও সফল নাট্য পরিচালকদের একজন ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল। এফ এন এফ, উড়োজাহাজ, দুষ্ট ছেলের দল সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের সূত্রে প্রবল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরেও নিজেকে অভিনেতা নয় বরং পরিচালক পরিচয়েই পরিচিত করতে চান তিনি। আজকে সাহসের মুখোমুখি ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল। 

সাহস: ঈদের কাজের ব্যস্ততা কেমন? 
রুমেল: আপাতত ঈদের কাজেরই ব্যস্ততা চলছে। লালবাক্স আর ডিস্টার্ব নামে দুইটা নাটকের শুটিং শেষ করলাম। এখন আরও দুইটা নাটকের প্রি প্রোডাকশন চলছে। এরমধ্যে ‘যা ঘটে ঘটুক’ নামে একটা তিন পর্বের নাটক বানাচ্ছি দীপ্ত টিভির জন্য। আরও কিছু নাটক বানাতে হবে কিন্তু এখনো মনমতো গল্প পাচ্ছিনা। আর আমি যেহেতু নিজের লেখা নাটকই নিজে বানাই তাই অপেক্ষা করছি নতুন গল্পের।

সাহস: এতো পেশা থাকতে নাটক নির্মাণের পেশাটাকেই কেনো বেছে নিলেন?
রুমেল: আমি আসলে এই পেশাটাকে পছন্দ করিনি। তার আগে এই পেশাটাই আমাকে বেছে নিয়েছে। অনেকটা প্রেম হয়ে যাবার মতো। কখন হয়ে গেছে জানিনা তবে যখন প্রেমটা টের পেলাম তখন প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। আজিজ মার্কেট, শাহবাগ, চারুকলায় আড্ডা দিতাম মারজুক ভাইদের সাথে। মাঝেমাঝে ভালো লাগা থেকে তাদের শুটিং দেখতে যেতাম। এরপর ফিদা ভাই আমাকে তার সাথে কাজ করার অফার দিলো। তখন ফিদা ভাইর 'চলছে চলবে' নামে একটা ধারাবাহিক অনএয়ার হচ্ছিলো। তখনো আমি মিডিয়ার কিছুই বুঝিনা। ফিদা ভাইর সাথে অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করলাম। এরপর এক সময় বস মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী তার সাথে কাজ করার সুযোগ দিলো। ব্যস জড়িয়ে গেলাম ফ্রেমের প্রেমে...

সাহস: নাটকের গল্প নির্বাচনে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেন?
রুমেল: আমি নাটক আমার নিজের জন্য বানাই না। আমার সব কাজই আমি বানাই দর্শকদের জন্য। তাই গল্প নির্মাণ সবকিছুতেই আমি সবার আগে ভাবি দর্শক কি চায়। দর্শক নাটকে যা আশা করে আমি চেষ্টা করি তাদের আশা পূরণ করতে। আর যদি কখনো নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য কিছু বানাই সেটা নিজের জন্যই বানাবো। যেটা নিজের জন্য বানাবো সেটা দর্শককে দেখাবো না। 

সাহস: কোন কোন পরিচালকের কাজ আপনাকে প্রভাবিত করে?
রুমেল: দেশি পরিচালক নাকি বিদেশী? আচ্ছা দেশি পরিচালকদের কথাই বলি। আমার বস মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ছোট ভাই ইফতেখার আহমেদ ফাহমির নির্মাণের ভক্ত আমি। অসম্ভব পছন্দ করি ওর কাজ। রেদোয়ান রনির কাজও আমি পছন্দ করি। তবে রনির সাথে অভিনয় করতে বেশি পছন্দ করি। যদিও আমি অভিনয় করতে চাইনা তবে রনির সাথে আমার কিছু কাজ করা হয়েছে। আমি ওর সাথে কাজ করাটা এনজয় করি। 

সাহস: পাঁচ বছর আগের নাটকের মান আর বর্তমান নাটকের মানের পার্থক্য কি?
রুমেল: এখন আবার সেই আগের অবস্থাতেই ফিরে গেছে। তবে মাঝখানে কিন্তু অনেক বড় একটা পরিবর্তন এসেছিল, সেটা সরোয়ার ভাইয়ের হাত দিয়ে। ছবিয়ালের অনেকেই একটা পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে সেই পরিবর্তনটা ধরে রাখা যায়নি। আমরা নাটক রেখে সিনেমা নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। পাশাপাশি ছবিয়ালের অনেক ফলোয়ার তৈরি হলো যারা নিজেকে ভাইব্রাদার পরিচয় দেয় কিন্তু আসলে তারা কখনো বসের সাথে বা আমার সাথে কাজ করেনি। এরা কাজ জানে না। বসের কাজ দেখে এরা একই রকম নাটক বারবার বানাতে লাগলো, এটা ক্ষতি করেছে। এটা যেমন নাটকের ক্ষতি করেছে তেমনি ছবিয়ালের বদনাম করেছে। আমরা কিন্তু আমাদের কাজ দিয়ে দর্শককে বাংলা নাটকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। দর্শক আমাদের নাটক দেখলে নিজেদের গল্প খুঁজে পেতো তাই নাটকগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেতো। কিন্তু যখনই ফলোয়ার আসা শুরু করলো তখনই কাজের জায়গা নষ্ট হয়েছে।

সাহস: ছবিয়ালের বাইরে নাটকের মান কেমন? 
রুমেল: নাটকের মান সেটা তো আমরা সবাই দেখছি। সবচেয়ে বড় সমস্যা বাজেট। কারণ যে নাটক বানাতে ৫ লাখ টাকা দরকার সেখানে যদি আপনাকে দুই লাখ টাকা দেয়া হয় তবে আপনি কিভাবে ভালো কাজ করবেন? বাজেটের অবস্থা খুবই খারাপ। এখন তো আমরা কম কাজ করছি, আমাদের জুনিয়ররা কাজ করছে। ওদেরকে অনেক সময় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয় নাটক বানাতে, কিন্তু আমাদের দেশে এমন অভিনেতা আছে যে একাই একটা নাটকের জন্য নেয় ৭০ হাজার টাকা। তবে বাকি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একজন ডিরেক্টর কিভাবে কাজ শেষ করবে? এই বাজেটে কিভাবে সবাই আশা করে যে ভালো মানের কাজ হবে? ভাই ভালো কিছু চাইতে হলে আগে ভালো কিছু দিতে হয়। 

সাহস: নবীনদের ভেতর কোন ডিরেক্টরদের কাজ আপনার ভালো লাগে?
রুমেল: আশার কথা হচ্ছে আমাদের এতো সীমাবদ্ধতার মধ্যে অনেকেই অনেক ভালো কাজ করছে, যেমন ইমরাউল রাফাত, আর বি প্রিতম, আনোয়ার হোসাইন, অমি, হিমেল, মাহমুদ দিদার, ইমেল হক এমন অনেকেই দুর্দান্ত কাজ করছে। একদিন দিদারের একটা কাজ দেখে এতো ভালো লেগেছে যে আমি দিদারকে চিনিনা তবুও তার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে কল করে শুভেচ্ছা জানিয়েছি তার কাজের জন্য। এমন অনেকেই ভালো কাজ করছে। 

সাহস: এই যে একজন নবীন নির্মাতার কাজ দেখে তাকে কল করে অ্যাপ্রিশিয়েট করা, এই কাজটা করতে অনেক সিনিয়দের অনীহা দেখা যায়। সিনিয়ররা জুনিয়রদেরকে হেল্প করতে চায় না কেন?
রুমেল: ভয় শুধু ভয়। যদি আজ কাউকে ভালো কাজে উৎসাহ দেই আর কাল যদি সে আরও ভালো কাজ করে আমার জায়গা দখল করে ফেলে এই ভয়েই সিনিয়ররা জুনিয়রদেরকে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে চায় না। আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন একটা কাজ করে অপেক্ষা করতাম যে দেখি বড় ভাইরা কিছু বলে কিনা। কারণ তাদের ফিডব্যাক কিন্তু নতুনদের জন্য মানসিক সাহস বাড়িয়ে দেয়।

সাহস: কিন্তু এভাবে কি কারো পক্ষে সারাজীবন নিজের জায়গা ধরে রাখা সম্ভব?
রুমেল: অসম্ভব। এটা কোনদিনই সম্ভব না। সবারই উচিত নিজে থেমে যাবার আগে আরেকজনকে পথটা দেখিয়ে দেয়া। কারণ আমি দশ বছর ঘুরে যে রাস্তা চিনেছি আমি যদি আমার জুনিয়রকে পাঁচ বছরে সেই রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারি তবে ও আরও ভালো কাজ করবে, এতে ইন্ডাস্ট্রির লাভ হবে। কারো মেধা কেউ আটকে রাখতে পারে না। আর কেউই সারাজীবন সমান জনপ্রিয় থাকবে না।

সাহস: নতুন নির্মাতা তৈরির ক্ষেত্রে ছবিয়ালের একটা দৃশ্যমান অবদান আছে
রুমেল: অবশ্যই। আমাদের বস মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীই কিন্তু একটা উদাহরণ। তিনি আমাদের মতো অনেককেই নির্মাণ শিখিয়েছেন। কাজ করার জায়গা তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কি ফারুকী ভাইয়ের জনপ্রিয়তা কমেছে? বা কেউ কি তার জায়গা দখল করতে পেরেছে? আসলে জায়গা দখল করা বলতে কোন কথা নেই।

সাহস: নতুন যারা ডিরেকশনে আসছে তাদের কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কি?
রুমেল: এই প্রশ্নের উত্তর দিলেই তো অনেকের মেজাজ গরম হবে। দুই একটা কথা বলি। নতুনরা কারো সাথে কাজ করতে গেলে আগে দেখতে হবে যে সেই ডিরেক্টরের কোয়ালিটি কি, তার ব্যাকগ্রাউন্ড কি, সে নিজে কি কাজ জানে কিনা। আর ডিরেকশনে আসতে চাইলে আগে জেনে বুঝে শিখে আসা উচিত। রুমেল পারছে আমি পারবো না কেন? এই বলে যদি ডিরেকশনে চলে আসে তবে হবে না। আমরা যারা এখন কাজ করছি আমাদেরকে সময় আর শ্রম দিয়ে কাজ শিখে আসতে হয়েছে। আর এখনকার ছেলেদের একটা সমস্যা মিডিয়ায় এসেই সুন্দর নায়িকা দেখলে পাগল হয়ে যায়। আমার মনে হয় আগে কাজটাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত আর কাজে ফোকাস ধরে রাখা জরুরী। কারন সাফল্যের কোন শর্টকাট রাস্তা নেই।

সাহস: নাটকের মান উন্নয়নে কি কি উদ্যোগ নেয়া উচিত?
রুমেল: সবার আগে নাটকের বাজেট বাড়াতে হবে, নাটকের মধ্যে বিজ্ঞাপন কমাতে হবে, আর্টিস্ট এবং ডিরেক্টর সবার জন্যই একটা নীতি নির্ধারন করা উচিত। একজন আর্টিস্ট কখন সেটে আসবে, কখন যাবে, দৈনিক কতো ঘণ্টা কাজ করবে, সবকিছু একটা সিস্টেমে আনতে হবে। সবাইকে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে হবে। আর্টিস্টরা একই দিনে একাধিক ডিরেক্টরকে ডেট দিতে পারবে না। আর এইসব কিছু করার জন্যই আগে চ্যানেল থেকে নাটকের বাজেট বাড়াতে হবে।

সাহস: দেশি বা ভিনদেশী গল্প চুরি করে নাটক বানাবার যে প্রবণতা এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
রুমেল: আসলে এই বিষয়ে কিছু বলার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট হাহাহাহা করে হাসতে ইচ্ছে করে। কারন মেধাহীনদের এসব কাজগুলোই হাস্যকর। আর টেলিভিশন চ্যানেলের প্রিভিউতে যারা থাকে তারা কি দেখে না যে তারা কি নাটক নিচ্ছে? আমার মনে হয় প্রিভিউ কমিটির আরো সচেতন হওয়া জরুরী। চ্যানেল সচেতন হলেই নকল বন্ধ হবে। আর যারা নকল করে তাদের কিন্তু নিজের বলতে কিছু নেই। 

সাহস: একবার আপনি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপর...
রুমেল: তারপর... আমি আসলে শুটিং শেষ করার আগে কাউকে বলতে চাইনি। তবে আপনাদের সাহসের মাধ্যমে আজকে আমি সবাইকে জানাচ্ছি যে, হ্যাঁ, আমি সিনেমার শুটিং শুরু করেছি। আমার সিনেমার নাম ‘র ফুটেজ’। অনেকটা শুটিং করেছি। বাকিটা হয়ে যাবে।

সাহস: আপনার সিনেমায় কারা কারা কাজ করছেন?
রুমেল: সবাই আমাদের দেশি আর্টিস্ট। তবে সবার নাম বলছি না। মূল নায়ক চরিত্রে অভিনয় করছে জিয়াউল হক পলাশ। বাকিরা সারপ্রাইজ হিসেবে থাক।

সাহস: 'র ফুটেজ' কবে নাগাদ মুক্তি পাবে?
রুমেল: এটা অনেক সময়ের ব্যাপার। কারণ এই সিনেমাটা আমি নিজেই প্রডিউস করছি। তাই ধীরে ধীরে কাজ করছি। দেখা যাচ্ছে একটা নাটক বানিয়ে বিশ হাজার টাকা পেলাম সেটা দিয়ে কিছুটা সিনেমার কাজ করছি। আবার আরেকটা কাজ থেকে আবার বিশ হাজার পেয়ে আরেকটু কাজ করছি। সবকিছু মিলিয়েই একটু সময় নিয়ে কাজটা করছি।

সাহস: যৌথ প্রযোজনা নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
রুমেল: যৌথ প্রযোজনা নিয়ে আমার ভাবনা হচ্ছে, হতে পারে কিন্তু দুই দেশের অংশগ্রহণ ফিফটি ফিফটি হতে হবে। সবক্ষেত্রে আমাদের ডিরেক্টর বা প্রোডিউসরদেরকে তাদের ভাগ বুঝে নিতে হবে। আমি যৌথ প্রযোজনার পক্ষে কিন্তু যৌথ পরিচালনার পক্ষে না।

সাহস: সিনেমা প্রোডিউস করতে গেলে কি কি যোগ্যতা থাকা দরকার?
রুমেল: টাকা থাকতে হবে। তার চেয়ে বড় কথা সিনেমার সাথে প্রেমটা থাকতে হবে। নাটক সিনেমা হচ্ছে ভালোবাসার জায়গা, প্রেমের জায়গা। যদি সিনেমার প্রতি আপনার প্রেম না থাকে তবে আপনি ভালো প্রোডিউসর হতে পারবেন না। কেবল টাকা দিলাম, ডিরেক্টর সিনেমা বানাবে আর আমি মেয়ে মানুষ নিয়ে থাকবো, এভাবে শিল্প হয় না ভাই। আমার মনে হয় আমাদের মতো যারা মিডিয়ায় অনেক কষ্ট করে, অনেক শ্রম দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছি আমাদের মধ্য থেকে প্রোডিউসর হলে ভালো হয়। কারন আমরা জানি সিনেমা কি আর সিনেমার প্রেম কি।

সাহস: অভিনেতা রুমেলকে আমরা সামনে কিভাবে পাচ্ছি?
রুমেল: প্রথম কথা রুমেল অভিনয় করতে চায় না। আমি শুধু একজন নির্মাতা। আমি কখনোই নিজেকে অভিনেতা পরিচয় দিতে চাই না। তবে ইফতেখার আহমেদ ফাহমির পরিচালনায় 'টু বি কন্টিনিউড' আর মুস্তফা কামাল রাজের 'ছায়াছবি' সিনেমায় কাজ করলাম। এই দুইটা সিনেমা সামনে মুক্তি পাবে। আর বর্তমানে শুটিং করছি ফাহমির 'পারিবারিক জাদুঘর' নামে একটা ধারাবাহিকে, এটা চ্যানেল আইতে প্রচার হচ্ছে।  

সাহস: বাংলা নাটক নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
রুমেল: আপাতত আমার একমাত্র চাওয়া আমাদের যেসব দর্শকরা ভারতীয় সিরিয়াল দেখে তারা আমাদের নিজেদের নাটক দেখুক, তেমন ভালো ভালো নাটক তৈরি হোক। আর ভারতীয় দর্শকরাও আবার আমাদের নাটক দেখবে। 

সাহস: সাহসের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
রুমেল: আপনাকেও ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত