entertainment-music-14813 কিংবদন্তি গফুর হালী আর নেই

কিংবদন্তি গফুর হালী আর নেই

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:১৩

সাহস ডেস্ক

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারি এবং মরমি গানের কিংবদন্তি আবদুল গফুর হালী আর নেই।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীর সার্সন রোডে মাউন্ট হাসপাতালে সঙ্গীতের এই দিকপালের জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার জানান, গফুর হালীর মরদেহ বুধবার নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির পিএইচপি হাইটসে রাখা হবে। 

আবদুল গফুর হালী ১৯২৮ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৬০ বছর ধরে একটানা গান লিখে চলা হালী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুই মাস ধরে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

গফুর হালীর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ টিপু, পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ মরমি গানের কিংবদন্তি আব্দুল গফুর হালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

এছাড়া পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন চৌধুরী, পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, আনোয়ারুল হক চৌধুরী, পরিচালক আলী হোসেন চৌধুরী সোহাগ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী রিংকু, আমির হোসেন সোহেল তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আবদুল গফুর হালী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারি গানের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। শেফালী ঘোষ, সন্দীপন, শিরিনসহ অনেক শিল্পীর উত্থান গফুর হালীর গান গেয়ে। হালীর গান নিয়ে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাগ্রন্থ।

শিল্পী শেফালী ঘোষের গাওয়া ‘ও শ্যাম রেঙ্গুম নঅ যাইওরে’, সন্দীপনের কণ্ঠে ‘সোনাবন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা’, শিরিনের কণ্ঠে ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ ও ‘মনের বাগানে ফুটিল ফুলরে’ এবং কল্যাণী ঘোষের গাওয়া ‘দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে হইতেছে নূরের খেলা’—এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা আবদুল গফুর হালী। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত শিল্পী শেফালী ঘোষের সঙ্গীতগুরু।

আবদুল হালী ছয়টি আঞ্চলিক নাটক রচনা করেছেন। এর মধ্যে গুলবাহার গীতিনাট্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চায়িত ও বেতার-টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত