health-21627-%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A6%AB%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%93-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE মলদ্বারে বিষফোঁড়ার কারণ ও চিকিৎসা

মলদ্বারে বিষফোঁড়ার কারণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ | ১৯ মে ২০১৭, ১৮:৫৮

ডা. মীর রাশেখ আলম অভি

 

মলদ্বার বা এর আশেপাশে ফোঁড়া হওয়াটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মলদ্বারের পাশে লালচে হয়ে ফুলে যায় এবং সেখানে হাত দিলে গরম ভাব অনুভূত হয়। প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয় বলে রোগীরা সাধারনত একে বিষফোঁড়া বলে থাকেন। অবশ্য ফোঁড়া যদি মাংসের বেশ ভিতরে অবস্থান করে তবে তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভূত হয়।

মলদ্বারে বিষফোঁড়া (Perianal Abscess)-এর কারন: সাধারনত মলদ্বারের পাশে অবস্থিত গ্রন্থি (Anal gland) বন্ধ হয়ে বিষফোঁড়া হয়ে থাকে। যৌনবাহিত রোগ থেকেও বিষফোঁড়া হতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিস, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র-এর বিশেষ রোগ (IBD), মলাশয়ের প্রদাহ (Proctitis) ইত্যাদি কারনে বিষফোঁড়া হতে পারে। স্টেরয়েড (Steroid) জাতীয় ওসুধ খাচ্ছেন এমন রোগীরাও এই রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। শিশু বা শারীরিকভাবে অচল বা অক্ষম রোগীদের ডায়াপার ও পোশাক ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে বিষফোঁড়া হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ
১. সাধারনত তীব্র ধরনের অপরর্বিতনীয় ব্যথা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন। বসে থাকলে এই ব্যথা বেড়ে যায়।
২. মলদ্বারে ব্যথার সাথে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এবং সারা গায়ে ম্যাজম্যাজে ব্যথা থাকতে পারে।
৩. মলদ্বারের পাশে ফুলে যায়।
৪. অনেক সময় ফোঁড়া ফেটে গিয়ে পুঁজ বরে হতে পার। পুঁজ বের হলে ব্যথা কিছুটা কমে যায়।

রোগ নির্ণয়
সাধারনত রোগীর ইতিহাস (Case History) নিয়ে এবং মলদ্বারের পরীক্ষা করে রোগনির্ণয় করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে অন্য কোন রোগ (যেমন- ক্যান্সার, মলাশয়ের প্রদাহ ইত্যাদি) আছে কিনা তা দেখা দরকার। সেক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেমন- সিগময়ডোস্কোপি, কোলনস্কপি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই ইত্যাদি।

চিকিৎসা
মলদ্বারের পাশে বিষ ফোঁড়া হলে দ্রুত সার্জারি করা প্রয়োজন। গ্রাম-গঞ্জে এমনকি শহরাঞ্চলেও চুন লাগিয়ে বিষফোঁড়া সারানোর নামে অপচিকিৎসা করা হয়। যা রোগীর ক্ষতি সাধন করে এবং পরর্বতীতে এ ধরনের চিকিৎসার কারনে রোগীর দেহে সংক্রমণ (ইনফেকশন) বা ফিস্টুলা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা না নিলে অনেক সময় রোগীর জীবন বাঁচাতে অণ্ডকোষ কেটে ফেলতে হয়। মনে রাখতে হবে, বিষফোঁড়া থেকে রক্তদূষণ র্পযন্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগ। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত এই রোগের চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।

লেখক: জেনারেল ও কোলোরেক্টাল সার্জন, লাইফ এইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা