বাঙালির চরিত্র ও ট্রাফিক আইন!

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৪৯

ছবি: আমিনুল ইসলাম মিঠু

এখন সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশরা কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন কার্যকর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে চলছে। নানা ধরণের ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে ও লিফলেট বিতরণ করে জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছেন। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে অপ্রতুল ট্রাফিক পুলিশদের সহযোগীতার জন্য তাদের সাথে যোগ দিয়েছে স্কাউটরা। এর মধ্যেই গতকাল এবং আজ অনেককেই দেখছি ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেই আইন ভঙ্গ করেছেন! উল্টো পথে মটারসাইকেল চালিয়েছেন! নিজেদের বাংলার শেষ নবাব ভেবে ফুটপাতে বাইক উঠিয়ে দিয়েছেন! যেখানে সেখানে পার্কিং করেছেন! অথচ এদের অনেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে সবাইকে আইন মেনে চলার আহবান জানিয়ে ফেসবুকে বিপ্লবী পোস্ট দিয়েছেন এবং নিজেরাও মেনে চলবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন!

গ্রীনরোডে অনেকগুলি স্কুল রয়েছে। সেখানে আজ সকালে অধিকাংশ অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত রাস্তায় সিগনাল ছাড়াই পারাপার হতে দেখেছি। সেখানে বেশকিছু অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের নিয়ে উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে এসেছেন! এই অভিভাবকরাই আবার রাস্তার ট্রাফিকের অবস্থার জন্য ট্রাফিক পুলিশদের উদ্দেশ্য করে গালাগাল করেছেন!

আপনার নিজেরা ট্রাফিক আইন মানবেন না! আবার বাচ্চাদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে নানা ধরণের পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কাঁপিয়ে দিলে কি কখনোই ট্রাফিক ঠিক করা সম্ভব নয়।

নিজেদের পরিবর্তন হতে হবে। অপ্রতুল ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে হলেও সঠিকভাবে ট্রাফিক কন্ট্রোল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকার স্বাভাবিক গতি ফেরাতে কেবল ট্রাফিক পুলিশকেই কঠোরভাবে আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নিলেই চলবে না অবশ্যই সকল জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে এবং নিজেদের আইন মানার পাশাপাশি অন্যদেরও আইন মানার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মোটরযান আইন করা হয় ১৯৩৯ সালে। এরপর সময়ের প্রয়োজনেই এই আইনের আরো একটি অধ্যাদেশ ১৯৮৩ সালে পাস করা হয়, কাজেই সেটাও যে এখন আদিযুগের; তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবীকে আমলে নিয়ে বর্তমান সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন পরিবহন আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। সংসদে আইনটি পাশ এবং রাষ্ট্রপতি সম্মতি জ্ঞাপন করলেই নতুন এই আইনটি বাস্তবায়নে আর কোন বাধা থাকবে না। ইতোমধ্যে প্রচলিত আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তায় কাজ করছে। আশাকরি দেশের সকল পরিবহনের রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পরিবহনগুলিকে জব্দ করা হবে।

কেবল ঢাকার রাস্তায় নয় পুরো দেশেই গণপরিবহনের চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেশী। মাত্র ৫৬,৯৭৭ বর্গ মাইল ভৌগোলিক আয়তনের দেশটিতে মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ কোটিরও বেশী। স্বভাবতই এই দেশে গণপরিবহনের সংখ্যা বেশী হওয়ার কথা অথচ এখানে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশী। সময় এসেছে আধুনিক যুগোপযোগী গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়কে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি একইসাথে নতুন খসড়া আইনটি পাশ করে তা সঠিক বাস্তবায়ন করার। নতুন পরিবহন আইনের খসড়া পড়েছি অনেক ভুলত্রুটি বিদ্যমান। সেগুলি যাচাই বাচাই করে আরো অধিক বাস্তবসম্মত করার বিকল্প নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই আইনে মোবাইল কোর্ট চালানোর বিষয় কোন কিছু বলা নেই। 

আসুন এবার বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপুর্ণ মোটরযান আইন জেনে রাখি-
মোটরযান আইনের ১৪২ নং ধারা অনুসারে, দ্রুতগতিতে কোনো মোটরযান চালালে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। শুধু তাই নয়, পরে অনুরূপ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অনধিক এক মাস মেয়াদের জন্য লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।

রাস্তার বিপজ্জনক অবস্থায় যেমন- ঢালু জায়গায় গাড়ি না থামাতে ড্রাইভারদের ওপর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। গাড়ির চালক বা কন্ডাক্টর চলন্ত গাড়িতে কিংবা বাম্পার বা ছাদে কিংবা ভেতর ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে কোনো ব্যক্তিকে আরোহণ করতে দিতে পারবেন না এবং অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী নিতে পারবেন না।

এই আইনভঙ্গে প্রথমবারের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় এবং পরবর্তী সময়ে একই অপরাধের জন্য সর্বাধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

আইন অনুযায়ী গাড়ির চালক যতখানি সম্ভব রাস্তার বামদিকে নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালাবেন এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সব যানবাহনকে ডান দিক দিয়ে যেতে দেবেন। চালক যদি কোনো মিছিল কিংবা একদল সৈন্য বা ওই রাস্তায় কার্মরত পুলিশের সম্মুখীন হন কিংবা রাস্তা মেরামতে নিয়োজিত শ্রমিকদের পাশ দিয়ে যান তাহলে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ১৫ মাইলের বেশি করা যাবে না।

চালক এমনভাবে গাড়ি চালাবেন, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দুটি গাড়ি অতিক্রম করার সময় পরস্পরের গায়ে যেন না লাগে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এলাকা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় চালককে সব দিকে নজর রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিসীমায় গাড়ি চালানো যাবে না।

এ ছাড়া যেসব মোটরযান সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে চালানো যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-
১. নিবন্ধনপত্রে মালামাল বা যাত্রী বোঝাইবিহীন অবস্থায় যে ওজন নির্ধারিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক ওজনসম্পন্ন গাড়ি।
২. নিবন্ধনপত্র অনুযায়ী যে ওজন নির্ধারিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক ওজনসম্পন্ন গাড়ি।
৩. নিবন্ধনপত্রে এক্সেলের যে সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারিত হয়েছে তার চেয়ে অধিক এক্সেল ওজনসম্পন্ন গাড়ি।

যত্রতত্র গাড়ি থামানো
যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো যাবে না বা যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া গাড়ি দাঁড় করালে জরিমানা এবং নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য স্থান থেকে যাত্রী উঠালে জরিমানা দিতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ৫০ টাকা এবং সময়সীমা প্রদর্শন না করে গাড়ি চালালে ৩০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

চালককে বাধ্যতামূলক ট্রাফিক সংকেত মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ চাইলে গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে চালক বাধ্য থাকবেন। রাস্তায় পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত সীমানার ওপর দিয়ে পথচারী পারাপারের সময় চালককে নির্দিষ্ট লাইন বরাবর অবশ্যই গাড়ি থামাতে হবে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না
মদপান করে গাড়ি চালানো যাবে না। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং দ্বিতীয় ও পরবর্তী সময়ে অনুরূপ অপরাধ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। উভয়ক্ষেত্রেই চালকের লাইসেন্স স্থগিত করা হবে।

আরো কিছু বিধিনিষেধ ও সাজা
গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস অথবা রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দুই হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন মালিক বা চালক। পরবর্তী সময়ে অনুরূপ অপরাধ করলে সর্বাধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। যেখানে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ সেখানে ওভারটেক করলে চালককে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

মটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ মোতাবেক ট্রাফিক আইন ধারা সমূহ-
ধারা-১৩৭: মোতাবেক যদি কোন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায়,গাড়িতে মেটালিক নাম্বার প্লেট ব্যবহার করে, ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়,নাম্বার প্লেট অস্পষ্ট, বাম্পার দ্বারা নাম্বার প্লেট আবৃত থাকে এবং রং পার্কিং করে; তাহলে উক্ত দ্বারা মোতাবেক ড্রাইভার বা মালিকের ২০০/-টাকা জরিমানা হবে।

ধারা-১৩৯: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ণ সংযোজিত পাওয়া গেলে-উক্ত দ্বারা মোতাবেক ১০০/-টাকা জরিমানা করা হবে।

ধারা-১৪০: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ স্থানে হর্ণ বাজাইলে, ট্রাফিক নির্দেশাবলী অমান্য করলে,বাঁধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানাইলে, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করলে, ওয়ান-ওয়ে অমান্য করলে, নিষিদ্ধ ইউটার্ণ করলে, নিষিদ্ধ সময়ে যানবাহন চলাচল করলে-উক্ত দ্বারা মোতাবেক ২৫০/-টাকা জরিমানা করা হবে।

ধারা-১৪২: এ ধারায় বলা হয়েছে আইনানুগ সর্ব্বোচ্চ গতিসীমা লংগন করলে-জরিমানা হবে ৩০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৪৬: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধ করলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৪৯: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, যানবাহনের হেড লাইট, ব্যাক লাইট, ইন্ডিকেটর, ব্রেক লাইট, লুকিং গ্লাস, রিয়ার মিরর (পেছনে দেখার আয়না), ওয়াইপার না থাকিলে বা ক্রটিযুক্ত থাকিলে, যানবাহলে আনসেইফ লোডিং থাকিলে, মটর সাইকেলে ২ জনের অধিক আরহন করলে, চালকের পাশে বা ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে, হেলমেট ব্যবহার না করলে-জরিমানা হবে ৩০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫০: যে সকল যানবাহন হইতে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর এমন ধোয়া বাহির হলে-জরিমানা হবে ২০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫১: অস্বচ্ছ, রঙ্গীন, কালো গ্লাস ব্যবহার করলে, ট্রিনটেড পেপার ব্যবহার করলে, ফিটনেস সার্টিফিকেটের সহিত গাড়ির রংয়ের মিল না থাকিলে, গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করলে, সরকার নির্ধারিত রং ব্যতিত অন্যকোন রং ব্যবহার করলে, বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া গাড়ির রং পরিবর্তন করলে ও মালিকানা পরিবর্তন না করলে-জরিমানা হবে ১,২৫০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫২: এ ধারায় বলা হয়েছে যে,রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট,ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট (যে সকল যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজন্য) না থাকিলে, ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা রুট পারমিটের মেয়াদ শেষ হইলে,রুট পারমিটের শর্ত অমান্য করলে, সিএনজি চালিত অটোরিকসা, ট্যাক্সিক্যাব এর চালক গন্তব্যস্থলে যাত্রী বহনে অস্বীকার করলে,অনটেষ্ট, এপ্লাইড রেজিষ্টেশন(এ এফ আর),ড্রাইবার ব্যতিত আট আসন বিশিষ্ট গাড়ির রুট পারটিম না থাকিলে, গ্যারেজ নাম্বার দিয়ে গাড়ি চালাইলে-এ ধরণের প্রতিটি অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক ভাবে ৭০০/-টাকা মাত্র জরিমানা করার বিধান আছে এবং হয়ে থাকে।

ধারা-১৫৩: এ ধারায় বলা হয়েছে যে,লাইসেন্স ব্যতিত কিংবা প্রবিধান লংঘণ পূর্বক গাড়িতে এজেন্ট বা ক্যানভাসার নিয়োজিত থাকিলে-জরিমানা হবে ১৫০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫৪: যানবাহনের ওজন, মালসহ ওজন, নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত থাকিলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫৫: এ ধারায় বলা হয়েছে যে,ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট না থাকিলে, ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেটে মেয়াদ শেষ হইলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫৬: মটরযান কিংবা আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত সংশ্লিষ্ট মটরগাড়ি চালাইয়া বাহিলে নিয়া গেলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫৭: এ ধারায় বলা হয়েছে যে,গাড়ি দাঁড় করাইয়া অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করলে, নষ্ট গাড়ি মেরামত করত: অন্য যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করলে, যাত্রী উঠানামা করাইয়া রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে,রং পার্কিং করিয়া রাস্তায়/ফুটপাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে-জরিমানা হবে ২৫০/-টাকা মাত্র।

ধারা-১৫৮: এ ধারায় বলা হয়েছে যে,গাড়ির স্পীড গভর্ণর সীল না থাকিলে, সিএনজি চালিত অটোরিকসা এবং ট্যাক্সিক্যাবের মিটার সেলের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করলে অর্থাৎ ঘষামাঝা ও টেম্পারিং করলে-জরিমানা হবে ২৫০/-টাকা মাত্র।

তাছাড়া লেন অমান্য অথবা লালবাতির সংকেত অমান্য করলে ৫০০/-টাকা জরিমানা ছাড়াও ধারা-১৩৭, ১৩৯, ১৫০ ব্যাতিত অন্যান্য সকল ধারা মোতাবেক দায়িত্বপালনকারী হলুদ জ্যাকেট পরিদেয় সার্জেন্টগণ (সেয়েরা ইকো, চেকপোষ্ট এবং ইনফোসমেন্ট পেট্রোল কারে দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমান উপরে বর্ণিত ধারায় প্রত্যেকটিতে দ্বিগুনহারে বৃদ্ধি পাবে।

লেখক: বার্তা প্রধান, সাহস২৪.কম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত