বি চৌধুরী-কামালের জোট মুলোই দেবে জনগণকে

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৭

বয়োবৃদ্ধ দুই নেতা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কামাল হোসেন জোট বেঁধেছেন। বর্তমান সরকারকে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই ঐক্যের অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছেন। দু নেতাই তাঁদের নিজ নিজ দল থেকে যে পরিমাণ লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন তা ইতিহাসের অংশ।

সামরিক জান্তার দল গড়ার সুবাদে রাষ্ট্রপতির পদ অলংকৃত করা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ন্যাক্কারজনকভাবে বিদায় হয়েছেন। বিএনপি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে গলাধাক্কা দিয়ে বিদায় করেছিল। বঙ্গভবনের পানি, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদকে খেলো বানিয়ে বিএনপি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় করেছে। বিএনপির হামলা থেকে বাঁচার জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাঁর পুত্র মাহী বি চৌধুরী ধর্মগ্রন্থ বুকে চেপে ধরে রেল লাইন ধরে দৌড়ে জীবন বাঁচিয়েছিলেন।

ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগে উত্তরাধিকারতন্ত্রের জোয়াল চাপিয়ে দেয়া উদ্যোক্তাদের একজন। দলীয় কাউন্সিলে তিনি সুবিধা করতে না পেরে আওয়ামী লীগে উত্তরাধিকারদের রাজনীতিতে টেনে আনেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হেরে ড. কামাল বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজ দল আওয়ামী লীগে বিপাকে পড়েন। অতঃপর দল থেকে বিদায় হয়ে, পতিত রাজনীতিবিদদের নিয়ে গণ ফোরাম নামে একটি দল গঠন করেন।

এই দু নেতার সাথে যোগ দিয়েছেন জাসদ - বাসদ - আওয়ামী লীগ ঘুরে আসা সাবেক ডাকসু নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। যিনি প্রেসক্লাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেশ সরব। যিনি এ সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা তসরুফ নিয়ে বলার সময় বলেছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে চুরি হচ্ছে অথচ দুই কোটি টাকা নিয়ে হৈ চৈ হচ্ছে। বেগম জিয়ার মামলার রায় নিয়ে তাঁর এ মন্তব্যটি ছিল। তিনি রাজনীতিবিদদের দুই কোটি টাকা তসরুফকে দুর্নীতি মনে করেন না!

এই ত্রয়ীদের সাথে একত্র হয়েছেন জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব। যিনি সামরিক জান্তা এরশাদের সাথে ছিলেন, ছিলেন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথেও। এই জোট গঠনের আগে - পরে নানান সময়ে তাঁরা বিএনপির সাথে কথা বলেছেন, মুখে মুখে জামায়াত থাকলে ঐক্য হবে না বললেও, তাঁরা জামাতকে বিশ দলীয় জোটের মোর্চায় ফেলে, বিএনপির সাথে দহরম মহরম চালিয়ে ঐক্যের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিএনপি এই জোটকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিএনপি এই জোটের কাছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের নামে যে দফা সমূহ পেশ করেছে তাতে প্রথমেই রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, যিনি দুর্নীতির কারণে আদালতের রায়ে কারারুদ্ধ। একইসাথে রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তির দাবির সাথে তারেক জিয়ার ফেরারী জীবনের অবসান ও রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পন্থাও বিএনপি এই জোটের সাথে ঐক্যের শর্ত হিসাবে রেখেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হচ্ছেন বর্তমানে তারেক জিয়া। যিনি হাওয়া ভবনকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সমান্তরাল ক্ষমতার উৎস বানিয়েছিলেন। দুর্নীতি ও ক্ষমতা চর্চার জন্য হাওয়া ভবনের নাম মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে।

এখন দেখার পালা, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলে দুর্নীতি ও রাজনীতিতে উত্তরাধিকারতন্ত্রের সাথে কতটা আপোষ করে এই জোট? নানান ঘাটের জল খাওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা আমজনতার জন্য কতটা মুলো উপহার দেন এটিই দেখার বিষয়।

আসন্ন শীত মৌসুমে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতিতে আম জনতার মুলোই জুটবে তা নিশ্চিত। এই জোটও মুলোই দেবে, অতীতে নানান দলে - উপদলে থাকার সময় আমজনতার জন্য তাঁরা মুলো নিয়েই ঘুরেছেন।

মুলোই সার
জয়তু মুলো।

লেখক: এক্টিভিস্ট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত