একজন সাদামাটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৪৩

মোঃ মশিউর রহমান

সম্ভবত ২০০২ সালের ৫ জানুয়ারী তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রথম হরতাল ছিল। নান্দিনা রেলওয়ে ষ্টেশনে আটকে দেয়া হয়েছিল আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনটি। যা হোক- শুরু হলো গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম। ২০০২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে লিয়াকত শিকদার সভাপতি এবং নজরুল ইসলাম বাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। সেই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন একজন নারী। যে নারী নেত্রীকে এর আগেই বেশ কয়েকবার দেখার এবং তার বক্তব্য শুনার সুযোগ হয়েছিল। নান্দিনা শেখ আনোয়ার হোসাইন কলেজের ( নান্দিনা মহাবিদ্যালয়) নবীন বরণ অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন। তিনি হলেন- মারুফা আক্তার পপি আপা। 

ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ে প্রথম যেদিন গ্রামের বাড়ী পিয়ারপুর আসেন, তার পরের দিন- ছাত্রলীগ নান্দিনা সাংগঠনিক থানা শাখার তৎকালীন আহবায়ক হাছানুজ্জামান জিল্লু ভাইসহ কয়েকজন ( সাথে সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা বন্ধু সম্রাট আকন্দও ছিল মনে হয়) পিয়ারপুর গিয়েছিলাম। অজপাড়া গাঁয়ের একজন সাধারণ নারী কিভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের এত বড় দায়িত্ব পায়- ভেবেছি আর অবাক হয়েছি। সেদিন প্রথম খুব কাছে থেকে দেখেছি এত নির্লোভ, নিরহংকার, সাদামাটা জীবনের অধিকারী একজন নেতা মারুফা আক্তার পপি আপাকে।

চলে আসার সময় আপাকে কদমবুচি করেছিলাম ,আর মনে মনে নিয়ত করেছিলাম রাজনীতি করবো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন এবং পপি আপার মত রাজনৈতিক ব্যক্তির সান্নিধ্য আমাকে রাজনীতি করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ২০০২ সাল হতে বিভিন্ন সময় দফায় দফায় তিনিও জেলখানার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপিত হয়েছিল। 

বারবার রাজপথে নির্যাতিত হয়েছে তবুও রাজপথ ছাড়েনি। পিছপা হয়নি কখনো। দেশরত্ন শেখ হাসিনার আস্থা এবং ভালোবাসাকে অপমান করেনি কখনো। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনে স্বীয় মেধা এবং যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। ২০০৪ সালে বিএনপি জামাতের রাষ্ট্রীয় মদদে হাওয়া ভবনের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। নারীনেত্রী আইভি রহমান সহ ২২ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। দেশরত্ন শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান। সেদিনের সেই সমাবেশে আহত হয়েছিলেন তিনিও। এখনো তিনি এক কানে কম শুনতে পান। 

দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে পপি আপার জীবনে কি পরিবর্তন হয়েছে? ২০০২ সালেও যেমন দেখেছি, এখনো ঠিক তেমনই। দল টানা ১০ বছর ক্ষমতায়, নীতি বিবর্জিত কোন কাজে কেউ প্রলুব্ধ করতে পারেনা। দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারো নির্বাচিত হলে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা পাবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আপার জুনিয়র ছিল, যিনি এখন একজন সরকারী কর্মকতা, ২০০২ সাল পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন- পপি আপা যখন মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি কেপে উঠতো। কিংবদন্তি সাবেক ছাত্রনেতা পপি আপা এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। এলাকায় জনগণের সাথে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নিয়মিত যাতায়াত করছেন। 

দেশরত্ন শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে, আবারো দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে নৌকার ভোট প্রার্থনা করছে। জামালপুর সদর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে গিয়েছেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া এবং ভোট চেয়েছেন। 

তাঁকে দেখে সাধারণ জনগনের অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, আপনি অনেক বড় নেতা। ঢাকা শহরে রাজনীতি করেন, শেখ হাসিনার কাছে থাকেন। আপনি নৌকা পাইলেই আমরা বেশী খুশি হমু। পপি আপাকে দেখলে সাধারণ জনগণ মনে করে আপন একজনকে কাছে পেয়েছি। আগামী নির্বাচনে আপনাকে এমপি হিসাবে দেখতে চায়।

পপি আপা তাঁদের উদেশ্যে বলেন, আপনাদের কাছে আসতে হলে আমাকে এমপি হিসাবে আসতে হবে না। আমি আপনাদের সন্তান। আমি আপনাদের কাছে দোয়া এবং নৌকা মার্কায় ভোট চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলাদেশ গড়তে যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। আপনারা এখন শান্তিতে থাকতে পারতেছেন। আগামী নির্বাচনে দেশরত্ন শেখ হাসিনার আরো শক্তিশালী করে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।           

পরিশেষে বলতে চাই, বিগত কয়েক বছর যাবৎ জামালপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নৌকার কর্মী সমর্থকদের সাথে কথা বলে একটা বিষয় নিশ্চিত জনসাধারণ পরিবর্তন চায়, সেক্ষেত্রে পপি আপার চেয়ে ভালো অপশন হয়না। তার ক্লিন ইমেজ, রাজনৈতিক দক্ষতা, রাজনৈতিক যোগ্যতা, সর্বোপরি তরুণদের কাছে তার অবস্থান।

সময় বদলেছে দেশ ও দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা পপি আপাদের মত আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন তরুণদের জায়গা করে দেয়া বড় প্রয়োজন। সৎ নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক কর্মী দল এবং দেশের সম্পদ। নিশ্চয়ই, গরিব-দুঃখী মানুষের অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভালো বুঝেন, আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। শুভ কামনা- প্রিয় মারুফা আক্তার পপি আপা।

মোঃ মশিউর রহমান 
সহসভাপতি
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ 
২নং শরিফপুর ইউনিয়ন শাখা
জামালপুর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত