ঋতুপর্ণ : শিল্পের অন্যতম স্রষ্টা

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৬, ১৬:৪৩

“ ব্ল্যাক স্ক্রিন, নাচের মুদ্রা তালে ব্যকগ্রাউন্ডে একটা ভয়েস। ফার্স্ট শট হাসপাতালে একটা কেবিনের ভেতর বেডের উপরে স্যালাইন ঝোলানো। স্যালাইনের একটি ছোট্ট ফোঁটাকে ফলো করে ক্যামেরা টিল্ট ডাউন করবে ধীরে। নীচে নামতেই ফ্রেম ইন হবে বেডে শুয়ে থাকা একজন রোগী। চরিত্রের নাম রুদ্র চ্যাটার্জী। এক পাশ হয়ে শুয়ে আছেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা ভয়েস (পুরুষ), 

পুরুষ: এক্সকিউজ মি?
রুদ্র: বলুন।
পুরুষ: আপনার সাথে একটু কথা ছিল। 
রুদ্র: কি দরকারে?
পুরুষ: আপনাকে নিয়ে। ........ ”

গল্পটি তাঁর নিজের। ছবিটির নাম চিত্রাঙ্গদা। এর চিত্রনাট্য, এমনকি পরিচালনাতেও ছিলেন মানুষটি। নাম ঋতুপর্ণ ঘোষ। বলা যায়, আধুনিক চলচ্চিত্রের যুগস্রষ্টা। 

গল্পটি সংক্ষেপে বললে এমনই দাঁড়ায়, রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা তার বাবার ইচ্ছায় নারীদেহে পুরুষালি কর্মকৌশল রপ্ত করেছিলেন। তারপর জঙ্গলে অর্জুন কে দেখে তার প্রেমে পড়েন এবং তার নারী সুলভ হয়ে ওঠার ইচ্ছা প্রকাশ পায়। সে ও তো এক ইচ্ছাপূরণ।

মূল চরিত্র রুদ্র চ্যাটার্জী হতে চেয়েছিলেন নৃত্যশিল্পী। নাচকে তিনি নেশা এবং পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাইলেও তাঁর বাবার মর্জিতে তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। এদিকে সমাজও তাকে আটকে রাখতে চায় ‘পুরুষ’ শব্দটির তকমায়। কিন্তু রুদ্র অবিরাম খুঁজে যায় তার জীবনের মানে, তার সুপ্ত নারীত্বকে। পুরুষ হলেও নারীসত্ত্বা তার মন অভ্যন্তরে সর্বদা বিরাজমান। অবচেতন মনে রুদ্র নিজেকে নারী রূপেই কল্পনা করে চলেন। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বিষয়টি সুদৃষ্টিতে দেখেন না। 

বিশ্ব কবির জন্মের সার্ধ শতবর্ষে তার দল-এ ‘চিত্রাঙ্গদা’-র মহড়া দিচ্ছেন, মঞ্চস্থ হবে বলে। এমন সময়েই তার দলে অর্জুন-এর মত প্রবেশ ঘটে মাদকাশক্ত, জোচ্চোর, প্রতিভাবান পার্কাশনিস্ট পার্থ’র। রুদ্র যেমন এই নৃত্যনাট্যের পরিচালক তেমনই প্রেমের দেবতা মদনের চরিত্রাভিনেতা। আর প্রেমের দেবতা মদনও এখানে নারীবেশী। যেন ইচ্ছের মাধুরী। ধীরে ধীরে রূদ্র ও পার্থ ঘনিষ্ঠ হয়। কিন্তু রুদ্র যে পুরুষ দেহে আবৃত মনে প্রানে এক নারী!

রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যে পিতার কারণে বাধ্য হয়ে পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে পড়ে মদনের কাছে বর প্রার্থনা করেছিলেন ললিত নারীতে রূপান্তরিত হতে। আর একসময় চিত্রাঙ্গদা’য় রুদ্র তার প্রেমিকপুরুষ পার্থ’এর জন্য নারীতে রূপান্তরিত হতে চায়।

মহাভারতে ঠিক যেমন অর্জুন কে পেতে চিত্রাঙ্গদার রূপান্তর চাইতে হয়েছে মদন দেবের কাছে। আর মদন দেবও তার সেই প্রার্থনা পূর্ণ করছেন। তাকে পরিণত করছেন নারীতে, কূরূপা থেকে সুরূপা তে। কিন্তু অর্জুন কাকে ভালো বেসেছিলেন? চিত্রাঙ্গদার নারী শরীরকে? নাকি নারী পুরুষের সংমিশ্রণে গড়া চিত্রাঙ্গদাকে? 

মহাভারতের একমাত্র উভকামী চরিত্র ছিল অর্জুন, যার অপর নাম আবার পার্থ, যার প্রেমে পড়েছিল পুরুষালি চিত্রাঙ্গদা আর যিনি নিজে বৃহন্নলা হয়ে কিম্পুরুষের জীবন কাটিয়েছিলেন এক বছর। সিনেমার পার্থকেও অর্জুনের সঙ্গেই তুলনা করেছেন ঋতুপর্ণ। যে রুদ্র’র সঙ্গে প্রেম করল কিন্তু বিয়ে করল নৃত্যগোষ্ঠীর কস্তুরীকে, চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রাইমা সেন। 

রুদ্র একজন পুরুষের শরীর নিয়ে জন্ম নেওয়া পুরুষ হিসেবে লালিত পালিত, কিন্তু মনের দিক থেকে সে নারী। তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুরুষের আচার ব্যবহার, শিক্ষা দীক্ষা। তার বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না যে তার সন্তান সর্বার্থে পুরুষ নয়। আছে লোকলজ্জা, হাসি তামাশার পাত্র হবার ভয়।

এই ছবির অন্যতম উপাদান ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি। যার নেপথ্যে আছেন অভীক মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালের জানালা দিয়ে শহরের নৈশচিত্র, চিত্রাঙ্গদার মঞ্চে মায়াময় আলোর বীম নেমে আসা, বাথরুমের বেসিন হঠাৎ মঞ্চে রূপান্তরিত হওয়া ইত্যাদি এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে ছবিটিকে। আর অর্ঘকমল মিত্রের সম্পাদনা, দেবজ্যোতি মিশ্রের সুরা ছবিটিতে নিয়ে এসেছে আরোও কয়েক ধাপ ওপরে। আর অভিনয়? এক অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন অঞ্জন দত্ত, যীশু সেনগুপ্ত, রাইমা সেন। আর ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁর অদম্য ও অপ্রতীম অভিনয়ে আবারও পরিচয় দিয়েছেন এক সুক্ষ্ম শৈল্পিকতার।

জীবনের শেষ মুক্তি প্রাপ্ত ছবি, যার মুখ্য চরিত্রের অন্তরে ছিল মৃত্যু ভয়। আর সেই ভয়ই যে এক বছরের মধ্যে বাস্তবের রেখায় সত্যি হয়ে উঠবে কে জানতো?

নিম্নমেধার বাঙালি দর্শকের কথা ভেবে যাঁরা যাঁরা সিনেমা বানাননি তাঁদের তালিকায় ঋতুপর্ণ খুব উপরের দিকে থাকবেন অবশ্যই। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক করার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটকের পরে যদি ঋতুপর্ণ ঘোষের নাম নেওয়া হয় তাতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তিনি একটা কথা বলতেন সবসময়, ‘সবার জন্য নয়, আমি শুধুমাত্র বড়দের ছবি বানাই’। এ কথাটি মর্মার্থ ভিন্ন। চলমান রীতি অনুযায়ী ছবির নির্মাণ কৌশল দেখলে দেখা যাবে প্রায় একই ঘরানার মধ্যে সব ছবির প্লট। আর সিনেমেটোগ্রাফি ও লাইটিং সব ঘেঁটে ঘ হওয়ার অবস্থা। 

ঋতুপর্ণ জানতেন পুরনো গল্পকেও কিভাবে নতুন আঙ্গিকে বলতে হয়। ‘চোখের বালি’র মতো একটি বহুল পঠিত উপন্যাসের চিত্রায়নে তিনি ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণের জন্ম দিয়েছিলেন।

সিনেমার দর্শকের বিষয়ে একটা শব্দ স্বাভাবিকভাবে বলা হয় তা হল, ‘দর্শকের জন্য সিনেমা’। কিন্তু একটা বিষয় দারুণভাবে সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এঁদের সিনেমাগুলোতে দেখা যায় তাঁরা সিনেমা বানিয়েছেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, নিজেদের আদর্শিক ভাবধারা থেকে। যার মাধ্যমে তাঁরা ‘দর্শকের জন্য সিনেমা’ বানানোর রীতিটা পাল্টে করেছেন ‘সিনেমার জন্য দর্শক’ বানানোর ভিন্ন পথ। 

আর সিনেমা তো একটা শিল্প। ঋতুপর্ণের ভাষ্য, শিল্পীর কোনো জেন্ডার নেই। বরং জেন্ডারকে একমাত্র মহান শিল্পীরাই অতিক্রম করে যেতে পারেন। আর যেটি অতিক্রম করতে যে মহৎ দৃষ্টিভঙ্গি, মনুষ্যত্ববোধ বা মানবিকতা বিপুল বিস্তারিত যৌনতার সীমারেখা অতিক্রম করে এক অসীম মহাকাশের প্রয়োজন হয়, তা ঋতুপর্ণের বরাবরই ছিল। যৌনতা, অযৌন সম্পর্ক, রূপান্তরকামিতা এমনকি মৈথুন কিংবা স্বমৈথুন, এমন কোনো বিষয় নেই যা তিনি তাঁর ছবিতে নিয়ে আসেননি।

এছাড়া ঋতুপর্ণ নিজেকে প্রচলিত যৌনতার, নারী-পুরুষের সীমাবদ্ধ সীমারেখার ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে পেরেছিলেন।

সংক্ষিপ্ত জীবন (তথ্যসূত্র ইন্টারনেট) :

বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋতুপর্ণ ঘোষ কলকাতায় ১৯৬৩ সালের ৩১ অগাস্ট জন্ম নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই চলচ্চিত্রজগতের মানুষ ছিলেন। বাবা সুনীল ঘোষ ছিলেন তথ্যচিত্র নির্মাতা।

ঋতুপর্ণ লেখাপড়া করেন কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলে। তারপর যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। আশির দশকে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের কপিরাইটার হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। সে সময় বিজ্ঞাপনের চিত্রনাট্য লিখে বেশ খ্যাতিও পান তিনি। তবে তাঁর মূল আগ্রহ ছিল চলচ্চিত্রে। সত্যজিৎ রায়ের অনুরাগী শিষ্য ঋতুপর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন নব্বইয়ের দশকে। প্রথমে তথ্যচিত্র দিয়ে শুরু হয় যায়।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ছোটদের জন্য লেখা গল্প থেকে তৈরি করেন প্রথম কাহিনীচিত্র ‘হীরের আংটি’। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। এরপর দ্বিতীয় ছবি ‘উনিশে এপ্রিল’ ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। আর দেবশ্রী রায়, অপর্ণা সেন অভিনীত দ্বিতীয় ছবিটির জন্য দু’টি জাতীয় পুরস্কার জিতে বাজিমাত করেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। চলচ্চিত্রের বিশাল অঙ্গনে জয় করেন দর্শকের ভালোবাসা। গতানুগতিক বাণিজ্যিক ছবির বদলে ভিন্ন ধারার এমন একটি ক্লাসিক্যাল ছবি দেখে দর্শক যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। সমালোচকদের প্রশংসা তো রয়েছেই, এছাড়া বাণিজ্যিক সাফল্যও পেয়েছে ছবিটি। 

সেরা চিত্রনাট্য হিসেবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘দহন’ ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। ঢাকা, কলকাতা কিংবা দিল্লির মতো বড় শহরে পথচলতি মেয়েদের উপর যৌন হামলার একের পর এক ঘটনা দেখে মনে হয় ১৮ বছর পর আজও ভীষণ প্রাসঙ্গিক এই ছবি। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বাড়িওয়ালি’ উপহার দিল সম্পূর্ণ অন্য স্বাদের একটি কাহিনি। এখানে নামভূমিকায় ছিলেন কিরণ খের।

‘অসুখ’ (১৯৯৯) সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে। আর ‘উৎসব’ ছবির জন্য ২০০০ সালে সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার পান ঋতুপর্ণ। প্রতিটি ছবিতেই যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যান তিনি। বিশেষ করে ‘উৎসব’-এ সনাতন দুর্গা পূজার প্রেক্ষাপটে যে গল্প তিনি তুলে আনলেন তা শুধু একটি পরিবারের নয়, যেন মধ্যবিত্তের ক্ষয়িষ্ণু মুল্যবোধের সংকটকেই সামনে নিয়ে আসে।

২০০৩ সালে মুক্তি পায় ‘শুভ মহরত’ এবং ‘চোখের বালি’। প্রথমটি একটি রহস্যকাহিনী। আর দ্বিতীয়টি তো রীতিমতো ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথের বিনোদিনীকে নতুনরূপে পর্দায় নিয়ে এলেন ঋতুপর্ণ। বিনোদিনী চরিত্রে ঐশ্বরিয়া যেমন ছিলেন অনবদ্য তেমনি মহেন্দ্র চরিত্রে অসামান্য অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ। ‘চোখের বালি’ বাংলা চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রায় এক মাইল ফলকস্বরূপ।

২০০৪ সালে মুক্তি পায় ঋতুপর্ণের প্রথম হিন্দিছবি ‘রেইনকোট’। অজয় দেবগন-ঐশ্বরিয়া অভিনীত ছবিটি সেরা ছবির জাতীয় পুরস্কার পায়। বিগ-বাজেটের হিন্দি ছবির তুলনায়  ‘রেইনকোট’ ছিল একেবারেই আলাদা ধাঁচের। গুটিকয় চরিত্র। মাত্র কয়েকটি সেট। অথচ সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালকের মুন্সীয়ানায় তা হয়ে ওঠে অসামান্য। অজয়-ঐশ্বরিয়ার অভিনয়ও ছিল দারুণ।

২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত  ‘অন্তরমহল’ কিছুটা বিতর্কিত হয়েছিল কয়েকটি দৃশ্যের কারণে।তবে সেখানে তিনি নিছক যৌনতা প্রচার করেননি মোটেই। বরং নিকট অতীতের কিছু অন্ধকারকে তুলে ধরেছিলেন।ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন অভিষেক বচ্চন, জ্যাকি শ্রফ, রুপা গাঙ্গুলি ও সোহা আলি খান।

‘লাস্ট লিয়ার’ মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। এখানে প্রবীণ মঞ্চ অভিনেতার ভূমিকায় অমিতাভ বচ্চন ছিলেন অনবদ্য। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘খেলা’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলা ছবিতে অভিনয় করেন মনিষা কৈরালা। ওই বছরই ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ ছবিটি বাংলা ভাষায় সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ভারতের জাতীয় পুরস্কার পায়।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আবহমান’ ছবিটি ঋতুপর্ণকে আবার সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার এনে দেয়।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘সত্যান্বেষী’। মৃত্যুর আগে ছবিটির কাজ শেষ করেন তিনি। মাত্র দুই দশকের পেশাগত জীবনে পেয়েছেন ১২টি জাতীয় পুরস্কার।

ঋতুপর্ণর ছবির বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি মারদাঙ্গা অ্যাকশন, ঘটনার ঘনঘটা, নাচ-গানের মতো বিনোদনের চটকের পরিবর্তে মানুষের গল্প, মনোজগতের গল্প বলতে ভালোবাসতেন।চলচ্চিত্রের ভাষা তার ছবিতে ছিল প্রধান। ছোট্ট একটি দৃশ্যের মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি করতেন দ্বন্দ্ব। সামান্য একটি ইঙ্গিতে খুলে যেতো আপাত গোপন মনোজগতের দ্বার। দর্শককে নিয়ে যেতে পারতেন ভাবনার সিঁড়িতে। পৌঁছে দিতে পারতেন মানবিক অনুভূতির শিখরে।

ঋতুপর্ণ শুধু একজন প্রতিভাবান পরিচালকই ছিলেন না, তিনি চিত্রনাট্যকার, গীতিকার এবং অভিনেতা হিসেবেও ছিলেন সফল। সংলাপ রচনার ক্ষেত্রেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ওড়িয়া ভাষার ছবি ‘দেইথিল্লি মা কু’তে তিনি প্রথম অভিনয় করেন।

২০১১ সালে তিনি অভিনয় করেন ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ এবং ‘মেমরিজ ইন মার্চ’ ছবিতে। ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ ছবির বিষয়বস্তু ছিল সমকামিতা। ব্যক্তিজীবনে ঋতুপর্ণ ছিলেন সমকামী এবং সেকথা তিনি স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি। ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ ছবিতে একজন সমকামী চিত্রপরিচালকের ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেন তিনি। এই চরিত্রটিকে বাস্তবানুগ করার জন্য তাকে কিছু হরমোন চিকিৎসা করতে হয় যা পরবর্তীতে তার দেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

২০১৩ সালের ৩০ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বড় অসময়ে তাঁর মৃত্যু হয়, মাত্র ৪৯ বছর বয়সে। তবে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষ আজও বেঁচে আছেন, থাকবেন চিরকাল।

মহান এ ব্যক্তির ৫৩ তম জন্মবার্ষিকীতে রইলো অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত