মিরসরাই এখন ঝর্ণার পর্যটন শহর

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:৩১

সাহস ডেস্ক

মিরসরাইয়ে মিলছে একের পর এক ঝর্ণার সন্ধান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ঝর্ণার তথ্য দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এ উপজেলা অনেকটা ঝর্ণার নগরে পরিণত হয়েছে। সেসঙ্গে মনোমুগ্ধকর প্রবহমান ঝর্ণাগুলো নিয়ে নতুন করে গর্ববোধ করছে মিরসরাই। পাহাড়ের পাদদেশে এবং কানালে অবস্থিত সেসব ঝর্ণার কারণে দেশবাসী মিরসরাইকে নতুন করে চিনছে। আর পর্যটকদের কাছে মিরসরাই এখন নতুন উপাধি পাচ্ছে ঝর্ণার শহর হিসেবে। ঐতিহ্যবাহী মহামায়া লেক, বৈচিত্রময় মুহুরী প্রকল্প এলাকায় দিনে দিনে বেড়েই চলছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন।

এখানকার খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, হরিণাকুন্ড এবং রূপসা ঝর্ণায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এসব ঝর্ণা এবং মিরসরাইয়ের মহামায়া, মুহুরী সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রতিদিন পর্যটক পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। এর মধ্যে ঝর্ণাগুলোতে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটছে।

প্রতিদিনই খৈয়াছরা ঝর্ণার পথে দলে দলে ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থী। তরুণ-তরুণী, বয়োজ্যেষ্ঠ, পরিবার-পরিজন আবার কেউ কেউ সহকর্মী, সহপাঠিদের নিয়ে ছুটছেন ঝর্ণার পথ ধরে। এদিকে মহামায়া লেকেও বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। বিশেষ করে মিরসরাইয়ের মতো মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা দেশের কোথাও নেই। একটি দুটি নয়, বিভিন্ন স্তরের সুন্দরে বৈচিত্রময়তায় সমৃদ্ধ এসব ঝর্ণাগুলো। এসব ঝর্ণার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, ছোটকমলদহ ঝর্ণা, বড় কমলদহ ঝর্ণা, বাওয়াছরা ও মহামায়াসহ আরো অনেক ছোটবড় ঝর্ণা। মিরসরাই থেকে বড়তাকিয়া, কমলদহ এলাকা এখন ঝর্ণার জন্য পরিচিত দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এই মিরসরাই উপজেলার মনোরম ঝর্ণাগুলো দেখতে। উচ্চতায় দেশের সর্বোচ্চ ঝর্ণা খৈয়াছরার ঝর্ণাটি। শুধু ঝর্ণার একটি স্তরই নয়, সাত সাতটি স্তর রয়েছে। পথ ধরে যেতে গহীন বন, পাখ-পাখালির কলরব, বড় বড় পাথর বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, পাহাড়ি পথ, বন-বাদাড়, পাথুরে ছরা বেয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলা সব মিলিয়ে ভিন্ন মাত্রার সাহসী অভিযাত্রা বলা যায়। প্রতিটি ঝর্ণা দেখতে অন্তত চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। কিন্তু দর্শনার্থীরা বিরক্ত না হয়ে বিমুগ্ধ হয়ে সারাদিনই কাটিয়ে দিচ্ছেন।

গত কয়েক বছর ধরেই এই ঝর্ণা দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। দর্শনার্থীদের আগমনের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে অনেকটা ঝর্ণা ট্যুরিস্ট সিটি হয়ে উঠছে এই মিরসরাই। কিন্তু পাশাপাশি সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে গেছে এখানকার থাকা, খাবার এবং বাথরুম।

এতকিছুর পরও ঝর্ণার ছল ছল শব্দ আর এখানকার পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দর্শনার্থীরা যেন আরও তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠেন মহামায়ার অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে। কেউ কেউ ছুটে যেতে চান সমুদ্র উপকূলসহ অর্থনৈতিক জোন এলাকায়। এরপর আবার ঝর্ণা এলাকায় ঘুরতে গিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্রতা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে পুরো দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু দিন শেষে বেশ ক্লান্ত হওয়ার পর মিরসরাই সদর কিংবা বড়তাকিয়াসহ আশপাশের কোথাও আবাসিক হোটেল না থাকায় ঝর্ণাগুলো দেখতে আসা পর্যটকরা গভীর রাতে যাত্রা করে ভোরে আসেন। ফের রাতে স্বদলে তারা রওনা হচ্ছেন আপন গন্তব্যে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত