world-31330-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%AA-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টের ৪ বিচারকের চ্যালেঞ্জ

ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টের ৪ বিচারকের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ | ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৩৩

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারক সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কর্তৃত্বকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

১২ জানুয়ারি (শুক্রবার) ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি নিয়ম ভেঙে নিজের মর্জি অনুযায়ী মামলার বেঞ্চ নির্ধারণ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিচারকরা বলেছেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি এখন তার ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক বিভিন্ন বেঞ্চে মামলা পাঠাচ্ছেন। তাদের দাবি, যেভাবে তিনি আদালত চালাচ্ছেন তা ভারতের গণতন্ত্রকেই হুমকির মুখে ফেলে দেবে। প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার সহকর্মী বিচারকদের ওপর কর্তৃত্বের স্বীকৃতি নয় বলে দাবি করেন তারা। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন সংবাদ সম্মেলনের নজির সৃষ্টি হলো।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রীতি মেনে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা অতীতে কখনও সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। আদালতে বিচার কাজ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থের বিচারকরা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন না। তাই চারজন বিচারক যেভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশকে ‘নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যম। 

শীর্ষ আদালতে মামলা বণ্টন, বিচারপতিদের নিয়োগ থেকে শুরু করে আরও নানান বিষয়ে গরমিলের অভিযোগ তুলেন বিচারকরা। তারা মুখ খুললেন বিচার বিভাগের ভেতরে দুর্নীতি নিয়েও। তাদের দাবি, যেসব মামলার ফল ভারতের রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়, প্রধান বিচারপতি সেই সব মামলা বেছে বেছে তার পছন্দসই কিছু বেঞ্চে পাঠান। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কাছে এসব বিষয়ে বার বার তাদের উদ্বেগ তুলে ধরার পরও তিনি কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করে ওই  চারজন বলছেন, এরপর জাতির সামনে হাজির হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোন বিকল্প ছিল না।

তবে কোন কোন মামলা প্রধান বিচারপতি তার পছন্দসই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন সেটি তারা উল্লেখ করেননি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়টি এর একটি। গেল বছর আগস্টে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ভেতর চলতে থাকা এই টানাপোড়েন প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

বিচার বিভাগের দুর্নীতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক দিন ধরেই একটা চাপা অসন্তোষ চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই চার ক্ষুব্ধ বিচারক একটি চিঠিও বিলি করেছেন যেটি তারা এর আগে প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তারা। চিঠিতে তারা বেশ কিছু বিচারিক নির্দেশের ব্যাপারে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, এর ফলে ভারতে বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিল্লিতে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে চেলামেশ্বর ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি মদন লোকুর।

বিচারপতি চেলামেশ্বর বলেন, আদালতের প্রশাসনিক বিষয়টি জানাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তাকে জানানো হয়েছিল কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। এর একটা বিহিত দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটাই যে, আমাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’গণতন্ত্রের অস্তিত্ব সঙ্কটের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের মন্তব্য, এখন দেশ ঠিক করুক প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচ করা উচিত কিনা।

সাহস২৪.কম/জুয়েনা/আল মনসুর