লক্ষ্মীপুরে মাদক ব্যবসায়ী আলতাফের দাপটে আতঙ্কে এলাকাবাসি

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২২, ২০:১৫

ফয়েজুর রহমান রকি, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের মাদকসেবী আলতাফের আতঙ্কে আছে গ্রামবাসী। সম্প্রতি মাদকসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আটক হলেও একই রাতেই থানা থেকে ছাড়া পান তিনি। এতে এলাকায় তার দাপট আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়রা তার মাদক সেবন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে আলতাফ ক্ষিপ্ত হয়ে তার মা এবং বোনকে দিয়ে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে এলাকা ছাড়া করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে আরও কয়েকটি পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকিও দিচ্ছেন তিনি। আলতাফ পেশায় নিজেকে জেলে পরিচয় দিলেও আসলে তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এরই সূত্রধরে পুলিশ গত শনিবার (২৫ জুন) রাতে তার বাড়িতে তল্লাশি করে ১০টি ইয়াবা উদ্ধার করে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। আলতাফ হোসেন লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলার ৯নং চরগাজী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জসিমের ছেলে।

সোমবার  (২৭ জুন) সকালে গ্রামবাসি একত্রিত হয়ে আলতাফসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।  এ সময় তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তারা বলেন- আলতাফের বিরুদ্ধে কিছু বললে তার মাদক ব্যবসার জন্য প্রতিবাদ করলে সে শুধু মিথ্যা মামলা নয় দেশীয় অস্র নিয়ে হামলা করে। 

গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, আলতাফকে তার বাড়ি থেকে ইয়াবা এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সেই রাতেই থানা থেকে আলতাফকে চেড়ে দেয় পুলিশ। আটক করে থানায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানান এলাকাবাসী। 

স্থানীয় রাজিব, জালাল আহম্মদ ও হেলালসহ ৯ জন জানান, আলতাফ এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা করে, নিজেই সেবন করে। মাদকের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এলাকা ছাড়া করে। তার অত্যাচারে এখন অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে পুলিশ ইয়াবা সহ তাকে আটক করে কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির জন্য তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। 

ভূক্তভোগী বিবি কুলসুমা জানান, আমি মাদকের বিরুদ্ধে  কথা বলায় আলতাফ আমাকে ব্যাপক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করে। আমি তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করায় আমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজের বসত ভিটা ছেড়ে স্বামী সন্তান নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছি।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি আলতাফ এর পাশের ঘরে থাকি তার মাদক সেবনের উৎকট গন্ধে থাকতে পারি না। আমি নিষেধ করলে সে আমাকে মারধর করে, আমকে ধর্ষণ এবং বাড়ি ঘর ছাড়া করবে বলে হুমকি দেয়। অপর এক নারী অভিযোগ করেন বলেন- আলতাফ তাকে চাবুক দিয়ে মারে। এতে তার পিঠ ও কোমর কেটে যায়। পরে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ চাবুক উদ্ধার করলেও অভিযুক্ত আলতাফের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যাবস্থা নেয়নি।

ইউপি সদস্য দিদার উদ্দিন বলেন, আলতাফকে মাদকসহ পুলিশ আটক করেছে শুনেছি পরে আবার ছেড়েও দিয়েছে। তার মাদক ব্যবসা এবং সেবনের বহু অভিযোগ আসে তবে আমি নিরুপায়।

অভিযুক্ত আলতাফ নিজেক নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি এই এলাকার মিয়াও না ভূঁইয়াও না, পুলিশ আমার বাড়ি তল্লাশি করতে আসে আমার ঘরে কিছুই পায়নি। ঘরের বাহিরের কোনে জর্দ্দার কোটোয় ইয়াবা পায়। পরে আমাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। আমি যাওয়ার সময় আমার স্ত্রীকে ওসি, এসপি সহ উপরের নাম্বার দিয়ে যাই। আমার স্ত্রী উনাদের সাথে কথা বলে। আমি নিরপরাধ প্রমাণ হওয়াতে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, আমাদের কাছে এমন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিব। সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। কেউ আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করলে, সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যা করণীয় পুলিশ প্রশাসন তাই করবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?