টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

আবারও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৩৬

সাহস ডেস্ক

টিম সাউদির বলে মিড অনে খেলে সিঙ্গেল নিতে দৌড়ালেন শান মাসুদ। রান পূর্ণ করার আগেই উদ্‌যাপন শুরু করে দিলেন। কেনই বা করবেন না! প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সুপার টুয়েলভ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল পাকিস্তান। সেই তারাই আগামী ১৩ নভেম্বর খেলবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে সেমিফাইনালে ওঠে বাবর আজমের দল। প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে গেল পাকিস্তান। এর আগে ১৯৯২ বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে পেয়েছিল পাকিস্তান। ৩০ বছর আগে কিউদের হারিয়েই ইমরান খানের পাকিস্তান নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গৌরবের পথে পা বাড়িয়েছিল, উঠেছিল ফাইনালে। অকল্যান্ডের সে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি হলো আজ সিডনিতে। সুপার টুয়েলভে ধুকতে থাকা পাকিস্তান স্বপ্ন দেখছে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের।

বুধবার (৯ নভেম্বর) সিডনিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। এর আগে বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসর-২০০৭ ও ২০০৯ সালে ফাইনালে খেলেছিল তারা। এ ছাড়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এর আগে তিনটি সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই জিতেছে পাকিস্তান। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও জয়ের অভিজ্ঞতা আছে কিউইদের। সেটা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড। চারবার জিতেছে পাকিস্তান, দুবার নিউজিল্যান্ড।

মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের ফিফটিতে জিতল পাকিস্তান।

এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ড্যারিল মিচেলের অসাধারণ ফিফটিতে ১৫২ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। তবে রান তাড়ায় পাকিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান, তাদের ওপেনিং জুটিতেই ওঠে ১০৫ রান। নিউজিল্যান্ড মূলত ছিটকে যায় সেখানেই। সঙ্গে ৩০ রানের ইনিংসি খেলেন মোহাম্মদ হ্যারিস। তবে বাবর, রিজওয়ানকে ফেরাতে পারলেও সেটি বেশ দেরি হয়ে যায় কিউইদের। সিডনির এ উইকেটে ১৫২ রান ডিফেন্ড করতে অসাধারণ কিছু করতে হতো কিউই বোলারদের, সেটি হয়নি। বাবর-রিজওয়ানের ফিফটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। ফিফটি করা দুই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমকে ফেরান ট্রেন্ড বোল্ড। ৪৩ বলে ৫ চারে ৫৭ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৪২ বলে ৭ চারে ৫৩ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাবর আজমও। মোহাম্মদ হ্যারিস করেন ৩০ রান। ২৬ বলে ২ চার ১ ছক্কায় মেরে স্যান্টনারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেনে হ্যারিস। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি ওঠে মোহাম্মদ রিজয়ানের হাতে।

দলের পারফরম্যান্সে হতাশ অধিনায়ক কেন উইলিয়ানমসন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। প্রথম ওভারেই ফিন অ্যালেনকে ফিরিয়ে যেন গতিপথটা ঠিক করে দিয়েছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। তবে তৃতীয় উইকেটে নেমে অধিনায়ক উইলিয়ামসন কনওয়েকে নিয়ে ৩৮ রানের একটি ঝুটি গড়েন। পরে রান আউট হন কনওয়ে। পরে গ্লেন ফ্লিপস ধ্রুত চলে গেলেও উইলিয়ামসনের সঙ্গে উইকেটে থিতু হয়ে দাঁড়ান ড্যারিল মিচেল। তবে ৪ রানের জন্য ফিফটি পূরণ করতে পারেননি অধিনায়ক। শাহীন আফ্রিদ্রি বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ৪২ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ৪৬ রান করেন শেন উইলিয়ামসন। তবে অধিনায়ক ফিফটি না পেলেও ফিফটি পেয়েছেন মিচেল। ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় ফিফটি, এর দুটিই বিশ্বকাপে। ৩৫ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ড্যারি মিচেল। সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম।

তবে আজ দলে কোনো পরিবর্তন আনেনি পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচটি খেলেছে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই সেমিফাইনালে খেলেছে দুই দল।

পাকিস্তান দল:
মোহাম্মদ রিজওয়ান, বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ হারিস, শান মাসুদ, ইফতিখার আহমেদ, শাদাব খান, মোহাম্মদ ওয়াসিম, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও শাহিন আফ্রিদি।

নিউজিল্যান্ড দল:
ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), গ্লেন ফিলিপস, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, ইশ সোধি, লকি ফার্গুসন ও ট্রেন্ট বোল্ট।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?