নীলফামারীতে গ্রামীণ নারীদের পরিকল্পিত শাক-সবজির বাগান
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪, ১২:০৫

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝারডাঙ্গা গ্রামের গৃহিনী জাহানারা পারভীন (৫২)। সচেতন পরিবারে পুষ্টি সমৃদ্ধ বৈচিত্রময় খাবার তৈরীতে। তিনি জানেন সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা। তাই পরিবারের পুষ্টির চাহিদা যোগানে নিজের শ্রমে গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত শাক-সবজির পরিকল্পিত বাগান। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শরীরের জন্য যে পরিমান খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে হিসেবে খাবার তৈরী করি। পরিবারের সকলকে সুস্থ রাখতে নিয়ম করে পুষ্টিকর খাবার তৈরী করছি। এসবের যোগান দিচ্ছি নিজের সবজির বাগান থেকে’।
জাহারারা পারভীন জানান, আগে সচেতন ছিলেন না খাদ্যমানের বিষয়ে। এতে করে যেমন হয়েছে অপচয়, তেমনি পুষ্টির অভাবে রোগবালাই লেগে থাকতো পরিবারের সদস্যদের। সচেতন হয়ে বদলে ফেলেছেন খাদ্যের নিয়ম। নিখাদ পুষ্টির যোগানে নিজেই গড়ে তুলেছেন রাসায়নিক এবং বিষমুক্ত শাক- সবজি বাগান। ওই বাগানের যোগানে মেটাতে সক্ষম হচ্ছেন পরিবারের চাহিদা। পাশপাশি বাড়িতে পালন করছেন হাঁস-মুরগি। হাঁস-মুরগির ডিম এবং মাংসে মেটাতে পারছেন পরিবারের আমিষের ঘাটতি। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর শাক-সবজি ও ডিম বিক্রি করে হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। পুষ্টির চাহিদা পূরণে রোগবালাই কমেছে পরিবারের সদস্যদের। এখন পরিবারের আট সদস্যই সু-স্বাস্ব্য নিয়ে কাজ করছেন যে যার কর্মস্থলে।
শুধু জাহানারা পাভীনই নয়, একই গ্রামে বৈচিত্র্যময় খাবার তৈরীর সক্ষমতা অর্জন করেছেন অন্তত তিনশত নারী। তারা সকলে পরিবারে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার যোগানে রাখছেন ভূমিকা। পরিবারের পুষ্টির যোগানে ছোট আকারে সকলে গড়ে তুলেছেন সবজির বাগান। আমিষের চাহিদা মেটাতে বাড়িতে পালন করছেন হাঁস-মুরগি। তাদের মধ্যে মর্জিনা খানম শিউলি (৪২) অন্যতম। তিনি তার বসত ভিটার সঙ্গে বিষমুক্ত শাক-সবজি চাষে সাড়া ফেলেছেন এলাকায়। হাঁস-মুরগি পালনের পাশপাশি ছোট আকারে একটি পুকুরে করছেন পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ। এতে করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন গ্রামীণ ওই নারী।
































